
চিংড়িঃ হ্যাচারী, আধুনিক চাষ প্রযুক্তি ও রোগ ব্যবস্থাপনা বইটির প্রচ্ছদ
“চিংড়িঃ হ্যাচারী, আধুনিক চাষ প্রযুক্তি ও রোগ ব্যবস্থাপনা” শিরোনামের বইটি উপমহাদেশের প্রখ্যাত চিংড়ি বিজ্ঞান লেখক ড. সুশান্ত কুমার পালের গবেষণা সমৃদ্ধ তথা তথ্য ভিত্তিক পুস্তক যা বাংলাভাষায় পূর্ণাঙ্গ চিংড়ি বিষয়ক রেফারেন্স বই হিসেবে স্বীকৃত।
বইটির মোট এগারটি অধ্যায়ের মধ্যে প্রথম আটটিতে গলদা চিংড়ির হ্যাচারী (প্রথম অধ্যায়), গলদা চিংড়ির চাষ (দ্বিতীয় অধ্যায়), পিনাইড হ্যাচারী/বাগদা চিংড়ি হ্যাচারী (তৃতীয় অধ্যায়), বাগদা চিংড়ির চাষ (চতুর্থ অধ্যায়), গলদা-বাগদার জীবন বৃত্তান্ত (পঞ্চম অধ্যায়), রোগ ব্যবস্থাপনার বিবেচ্য বিষয় (ষষ্ঠ অধ্যায়), চিংড়ির রোগ ও প্রতিকার (সপ্তম অধ্যায়) এবং হ্যাসাপ ব্যবস্থাপনা (অষ্টম অধ্যায়) প্রয়োজনীয় তথ্য, উপাত্ত ও বৈজ্ঞানিকব্যাখ্যাসহ অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অবশিষ্ট তিনটি অধ্যায়ে চিংড়ি চাষঃ পর্যালোচনা (নবম অধ্যায়), আনুষঙ্গিক বিষয়াদি (দশম অধ্যায়) এবং গ্রন্থপঞ্জি/পরিভাষিক শব্দাবলী (একাদশ অধ্যায়) লিপিবদ্ধ করা হয়েছে যা বইটিকে করেছে আরও সমৃদ্ধ। বিষেশত দশম অধ্যায়ের আনুষঙ্গিক বিষয়াদিতে চিংড়ি চাষ ও রোগ নিয়ন্ত্রন বিষয়ক প্রশ্নোওর অংশটি চিংড়ি চাষীদের বিশেষভাবে উপকৃত করবে। বাগদা ও গলদা চিংড়ির হ্যাচারী, আধুনিক চাষ প্রযুক্তি ও রোগ ব্যবস্থাপনার খুটিনাটি বিষয়াদি প্রয়োজনীয় চিত্রসহ উপস্থাপন ফিশারীজ সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, গবেষক ও চিংড়ী চাষীদের কাংঙ্খিত চাহিদা পূরণ করবে তা নিশ্চিত করে বলা যায়।
বইটির মুখবন্ধে মোঃ নজরুল ইসলাম (মহাপরিচালক, ম্ৎস্য অধিদপ্তর) লিখেছেন- “বাংলাদেশে চিংড়ি চাষ উন্নয়নে যে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে তা লাগসই ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে এই বই থেকে সামগ্রিক ধারণা লাভ করে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ফলপ্রসু করে তোলা সম্ভব। আধুনিক চিংড়ি চাষ প্রযুক্তি কৌশলের প্রয়োগ ও ব্যপক সম্প্রসারণের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে, সেই প্রোক্ষিতে বইটি সঠিক দিক নির্দেশনা করবে বলে আমার বিশ্বাস”। বইটির প্রসঙ্গ কথা পাতায় লেখক নিজে আমাদের জানিয়েছেন- “আমার পেশাগত জীবনে এবং এই তথ্য প্রযুক্তির যুগে বিভিন্ন প্রাণীর অবদান পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে সম্ভবত এই বিশাল প্রাণীকুলের মধ্যে সামূদ্রিক বাগদা চিংড়ির স্ত্রী প্রজাতি একক হিসেবে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি মানবকুলকে দুতে পারে, যা অন্য কোন প্রাণী থেকে পাওয়া সম্ভব নয়। … একটি ডিমওয়ালা স্ত্রী বাগদা চিংড়ি থেকে পোনা উৎপাদন করে এবং সেই পোনা চাষ করে ৬ মাসে কোটি টাকার অধিক মুনাফা অর্জন করা যায়। … আজ বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অপরিকল্পিতভাবে চিংড়ি চাষ বাস্তবায়নের ফলে ও জলজ পরিবেশের অবক্ষয় সৃষ্টি হওয়ার কারণে বর্তমানে চিংড়ি উৎপাদন কিছুটা স্থিমিত হয়ে পড়েছে। … রোগের প্রাদুর্ভাব কিংবা রোগ বিস্তারের ফলে চিংড়ি মড়ক একটা বিরাট সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। তাই কিভাবে চিংড়ি চাষকালীন সময়ে জলজ পরিবেশকে রোগমুক্ত রাখা যায় সে বিষয়ে সবার দৃষ্টি পড়েছে। প্রথমত এই শিল্পকে রোগমুক্ত রাখঅর জন্য কোয়ারেনটাইন এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপরার উপর দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন”।
বইটির লেখক পরিচিতি থেকে জানা যায় সিলেটে জন্ম নেয়া ড. সুশান্ত কুমার পাল কেবলমাত্র উপমহাদেশের প্রখ্যাত চিংড়ি বিজ্ঞান লেখকই নন একাধারে তিনি ছড়াকার, ক্রীড়ামোদি, অংকনারাগি, সাহিত্যপ্রেমিক ও ভ্রমণবিলাসী। তাঁর পেশাগত সংযুক্তি রয়েছে দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে পরীক্ষক হিসেবে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাথে প্রকল্প মূল্যায়ক হিসেবে এবং বিভিন্ন জার্নালের (SAARC/SAIC সহ) সম্পাদনা সদস্য হিসেবে। তিঁনি ভারতের অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয় হতে মৎস্য বিজ্ঞানে পিএইচ.ডি ডিগ্রী অর্জন করেন এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদের প্রক্তন সদস্য-পরিচালক (মৎস্য)।
বইটি সম্পাদনা করেছেন প্রফেসর গুলশান আরা লতিফা, সাবেক বিভাগীয় প্রধান, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। প্রথম প্রকাশঃ জুলাই-১৯৯৬ এবং তৃতীয় সংস্করণ জুন, ২০০৭। তিনশত পঞ্চাশ টাকা মূল্যের এই বইটির প্রকাশিকা মনিকা, গুরুদাসপুর, নাটোর।




সাম্প্রতিক মন্তব্য