
চিত্রঃ দেশী রূপচাঁদা (বামে) ও বিদেশী পিরানহা (ডানে) মাছের মধ্যে পার্থক্য
দক্ষিণ আমেরিকার স্বাদুপানির রাক্ষুসে মাছ পিরানহা বাংলাদেশে বাহারী মাছ হিসেবে প্রবেশ করলেও পরবর্তীতে ময়মনসিংহের হ্যাচরী মালিক ও মাছচাষীদের হাত ধরে প্রায় সারা দেশের চাষের পুকুরে চলে আসে। আশঙ্কা করা হয় এই মাছ আমাদের মুক্ত জলাশয়ে চলে আসলে তা হবে আমাদের মাৎস্য জীববৈচিত্র্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি স্বরূপ। তেলাপিয়া, নাইলোটিকা এবং সিলভার কার্পের মতো এই মাছেরও সহজেই মুক্ত জলাশয়ে চলে আসাটাই স্বাভাবিক। ঠিক এরকম একটি সময়ে এই মাছের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে উৎপাদক থেকে শুরু করে বিক্রেতাদের কাছে এই মাছের নামকরণ হয় বিদেশী বা থাই রূপচাঁদা/চাঁদা যা খুবই বিভ্রান্তিকর।
সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে দেশী রূপচাঁদা (Pampus argenteus) ও বিদেশী পিরানহা (Pygocentrus natteri) মাছের মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকলেও আপাত দৃষ্টিতে কিছু মিল বর্তমান। এরই সুযোগ নিয়ে বাজারের অসাধু মাছ বিক্রেতারা পিরানহা মাছকে বিদেশী বা থাই রূপচাঁদা/চাঁদা নামে বিক্রি করে নিরীহ ক্রেতা সাধারণকে ঠকিয়ে আসছে।
ক্রেতা সাধারণের সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে রূপচাঁদা ও পিরানহা মাছের মধ্যে পার্থক্য ছবিতে (উপরে) ও ছকে (নিচে) উপস্থাপন করা হলো। প্রত্যাশা করি ক্রেতা সাধারণ রূপচাঁদা ও পিরানহা মাছ চিনে সঠিক মাছটি কিনতে সক্ষম হওয়ার মাধ্যমে উপকৃত হবেন।
| ক্রম | রূপচাঁদা | পিরানহা |
| ১। | দাঁত থাকে না | দাঁত থাকে |
| ২। | কানকুয়া (operculum) নেই | কানকুয়া (operculum) আছে |
| ৩। | এডিপোজ পাখনা (adipose fin) অনুপস্থিত | এডিপোজ পাখনা (adipose fin) উপস্থিত |
| ৪। | গায়ের রং উজ্জ্বল বর্ণের | গায়ের রং ধূসর বর্ণের |
| ৫। | রাক্ষুসে স্বভাবের নয় | রাক্ষুসে স্বভাবের |
| ৬। | সামুদ্রিক মাছ | স্বাদু পানির মাছ |
পুনশ্চঃ রাক্ষুসে স্বভাবের পিরানহা মাছ আমাদের জলজ জীব বৈচিত্র্যের জন্য হুমকি স্বরূপ। তাই এই মাছের চাষ, বিপনন ও সংরক্ষণ থেকে আমাদের সবারই বিরত থাকা উচিত।




এই লেখায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী দিয়ে আমাদের সহায়তা করেছেন Mr Kamrul Islam Bhuiyan। এ জন্য তাঁকে আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ভবিষ্যতেও ধরণের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।